বর্তমানের সফল সব E-commerce গুলোর সফলতার পেছনে কারণগুলো প্রায় একই। ভেবেছিলাম খুবই অসাধারণ এবং অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্যের সন্ধান পাবো। তবে, যা পেলাম তা হচ্ছে খুবই সাধারণ বিষয়গুলোর যথাযথ ব্যবহার। অর্থাৎ e-commerce ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য কঠিন কঠিন কোন নিয়ম বা পথ খোজার কোন দরকার নেই। এখানে যতটুকু না করলেই না, সেটাই পুরোপুরি সঠিকভাবে করতে পারলে সফল হওয়া আসলে চমকপ্রদ কোন বিষয় নয়। এখন জেনে নেয়া যাক, সফল e-commerce গুলোর সামনে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তাদের চিন্তাভাবনাগুলো কি রকম ছিল।

) কোম্পানির নামঃ সফল e-commerce গুলো কোম্পানির নাম খোজার ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক ছিল। “Cadabra” নামটি এসেছিল বিখ্যাত জাদুমন্ত্র “abracadabra” হতে। কিন্তু অনেকেই এ নামটি উচ্চারণের দিক থেকে আরেকটি শব্দ “cadaver” এর সাথে গুলিয়ে ফেলতেন, যার একটি অর্থ কিনা আবার “মৃতদেহ”! আপনারা যারা আমার মতো ভাবছেন “Cadabra” আবার কোন বিখ্যাত e-commerce এর নাম। তাহলে, জেনে রাখুন এটি Amazon.com এর পূর্ব নাম ছিল। Jeff Bezos পরবর্তীতে “Cadabara” নামটি সরিয়ে কোম্পানির নাম Amazon রাখেন।
তিনি এ নামটি দুটো কারণে রাখেন বলে জানিয়েছেন। এক, Amazon হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নদী এবং তিনিও পরিকল্পনা করেছেন যে তার এ online shop পৃথিবীর সবচেয়ে বড় online shop হবে। দুই, সে সময়ে website এর listing গুলো alphabetically হতো।

অপরদিকে, নিজ কোম্পানির কি নাম দেয়া যায় সে বিষয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করতে করতে Jack Ma একসময়ে “Alibaba” নাম নিয়ে হাজির হলেন। একটি সাক্ষাতকারে তিনি বলেন- “আমি একটি বৈশ্বিক কোম্পানি গড়তে চেয়েছিলাম, তাই আমি এমন একটি নামে আমার কোম্পানিকে পরিচিত করতে চাই,
যে নামটাও কিনা বৈশ্বিক। ”

যদিও এটা সত্য যে, কখনওই কোন নাম কোম্পানিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না বরং কোম্পানি-ই নিজ যোগ্যতায় কোম্পানির নামকে প্রতিষ্ঠিত করে।

তবে, আমি আগেই জানিয়ে রেখেছি যে, এ লেখায় আমি খুঁজতে চলেছি  এখনকার বড় এবং সফল e-commerce গুলো এ সফলতার পথে আসবার জন্য কিভাবে চিন্তাভাবনা করতো; তাই সেক্ষেত্রে এটি পরিষ্কার যে, কোম্পানির নাম রাখার পেছনে তারা পরিপূর্ণ শ্রম ও মেধা দিয়েছিলেন। আর এ নামগুলোর পেছনের ইতিহাস জানলে মনে হয়, তারা আগে থেকেই কি তবে প্রবলভাবে এটি বিশ্বাস করতেন যে, তাদের ব্যবসা আসলেই এরকম বড় এবং সফল হবে!

আর সেক্ষেত্রে এটিকেই বলা হয় “Winning Mindset”. এ নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

) দূরদর্শিতাঃ সফল e-commerce গুলো সবসময়ই দূরদর্শী চিন্তাভাবনা করেছে। এরা কখনো কিভাবে অল্প সময়ে বা দ্রুত বড় হওয়া যায়, সে ভাবনায় থাকেনি। তাদের চিন্তাভাবনা ছিল সামনের দিনগুলোকে নিয়ে। কিভাবে এগিয়ে গেলে সামনের দিনগুলোতে প্রভাব বিস্তার করা যাবে সে বিষয় সমাধানেই তারা বেশি সময় দিতেন ।

E-commerce এর বর্তমান সময়ে অনেক কোম্পানি-ই যে কাজটি করে, সেটি হচ্ছে শুধুমাত্র বর্তমান নিয়ে পড়ে থাকা।

বর্তমান বাজার কেমন, বাজারে কি trend চলছে, যে trend চলছে সেটা অনুযায়ী নিজেকে সাজিয়ে নেয়া ইত্যাদি। এগুলো হচ্ছে short term চিন্তা। যেটা শুধু short term এর জন্যই ভালো, long term এর ক্ষেত্রে যা আবার কাজে আসে না।

এ ধরনের স্বল্প সময়কে তথা short term -কে পুজি করে ব্যবসা করলে, সেটা কেবলমাত্র বর্তমান বাজারের একটি স্থির চিত্র  দেখায় যা কিনা খুবই ধীরে ধীরে পরিবর্তীত হতে থাকে এবং বিরত রাখে সেসব দেখতে বা বুঝতে যা সামনে আসছে বা, আসতে পারে যা কিনা বাজারে বিপ্লবও ঘটাতে পারে।

একটি দূরদর্শি e-commerce কখনওই trend অথবা বাজারকে শুধুমাত্র follow করে না, এটি নিত্যনতুন trend এবং বাজারও সৃষ্টি করে।

 ) ছোট থেকে বড়ঃ এখনকার সফল সব e-commerce site গুলো দেখলে মনে হবে, কোন পণ্যটি এখানে নেই? অথচ, এদের প্রায় সবগুলোই শুরু করেছিল নির্দিষ্ট এবং হাতে হিসাব করার মতো কয়েক ধরনের পণ্য দিয়ে।

আর এটিও ছিল তাদের এক ধরনের কৌশলগত অবস্থান।

বিষয়টি হচ্ছে, যোগ্যতা বা সামর্থ্য থাকবার পরেও  ক্রেতাদের সামনে সবকিছু নিয়ে না আসা।

নিজ site-এ সবকিছু দেবার পূর্বে, কিছু নির্দিষ্ট বা নিজ best পণ্যগুলো নিয়ে আসা এবং সেই পণ্যগুলোকে ঘিরে শক্ত বাজার ব্যবস্থা তৈরি করা।

এ ধরনের কৌশল ক্রেতাদের নিকট নিজ ব্যবসার ধীরে ধীরে বড় হওয়া (artificial growth) তুলে ধরে, যা ক্রেতাদের মাঝে অনেক ভালো প্রভাব ফেলে।

) প্রযুক্তির সাথে চলাঃ প্রযুক্তির গতি হয়তো কিছুদিন পর আলোর গতিকেও ছাড়িয়ে যাবে।

অনেক ভালো ভালো e-commerce কোম্পানিকে বেগ পেতে হচ্ছে প্রযুক্তির সাথে সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে।

যেহেতু, প্রযুক্তি এখন ক্রেতার হাতের মুঠো হতে শুরু করে, ক্রেতার credit card হয়ে company এর account পর্যন্ত চলে আসছে। তাই, প্রযুক্তি থেকে আলাদা হয়ে থাকা আর ব্যবসায় আরও লাভ হতে বিরত থাকা একই বিষয়।

e-commerce এর জন্মই প্রযুক্তির হাত ধরে। সেজন্যে যত সফল e-commerce বর্তমানে আছে সেগুলোর একটিও নিজ ব্যবসার জন্য উপকারী প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে দ্বিতীয়বারও ভাবেনি কারণ এটি তাদের ব্যবসাকে সহজ, দ্রুত এবং একই সাথে company value-ও বাড়িয়েছে।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ asset বা সম্পদ হিসেবে ধরা হয়।

) Innovation: শুধু e-commerce এর ক্ষেত্রেই বা কেন, যখনই কোন ব্যবসা -পণ্য, সেবা এমনকি চিন্তার মধ্যেও নতুনত্ব (innovation) নিয়ে আসতে পারে, ঠিক সে মুহূর্ত থেকেই সে ব্যবসা আর সকল সমজাতীয় ব্যবসা হতে আলাদা হয়ে বাজারে একটি শক্ত এবং অনন্য অবস্থান গড়তে পারে, যা কিনা প্রতিযোগিতার সময়ে নিজেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখে।

Amazon.com এর “kindle E-book reader” এর বিষয়ে অনেকে জেনে থাকতে পারেন। Amazon online-এ বই বিক্রির পাশাপাশি বই পড়ার এ নতুন এ digital পণ্য নিয়ে হাজির হলে বাজার সরগরম হয়ে পড়ে। মাত্র সাড়ে পাচ ঘন্টায় সকল e-book বিক্রি হয়ে যায়! এর পাশাপাশি তাদের brand value-ও বহুগুণে বৃদ্ধি পায় যা Amazon-কে বিশ্বমহলে নতুন করে পরিচিতি দেয়। আর এটিই হচ্ছে তাদের innovation (innovative পণ্য)।

Innovation এর ধারা সফল e-commerce গুলো এখনো পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

যেমন, Amazon এর “Amazon Flow” বা, Alibaba এর “Pailiato”.

এ apps গুলোর মাধ্যমে যে কেউ চলতি পথে দেখা কোন পণ্য দেখে সেটার ছবি তুললে, app- সে পণ্যটি দ্রুততম সময়ে চিহ্নিত করে  shopping list-এ যোগ করে দেয়।

প্রতিদিন এক কোটিরও বেশি মানুষ “pailiato”  feature-টি ব্যবহার করে।

) গ্রাহক সেবাঃ e-commerce এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে গ্রাহক সেবা (customer service). কোম্পানি যত শ্রম বা, টাকাই নিজ ব্যবসা প্রচারে ব্যায় করুক না কেন বাজারে “word of mouth” যদি খারাপ থাকে তাহলে সে ব্যবসার বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব না।

আর মানসম্পন্ন গ্রাহক সেবা পারে এ “word of mouth” নিয়ন্ত্রণ করতে।

একটি সাক্ষাতকারে, Jeff Bezos বলেন- ” বাস্তব দুনিয়ায় আপনার নাখোশ ক্রেতা হয়তো বড়জোর ছয়জন মানুষকে তার অভিযোগ জানাবে, কিন্তু অনলাইন-এ এই একই ক্রেতা ৬,০০০ মানুষকে দ্রুততম সময়ে নিজ অভিযোগ জানিয়ে দিতে পারবে।”

সফল e-commerce গুলো সবসময় তাদের সকল দরজা,জানালা ক্রেতাদের অভিব্যক্তি জানার জন্য উন্মুক্ত করে রাখে।

এটি নিশ্চিত করা হয় যেন, একজন ক্রেতা যেন সবসময়ই সহজে এবং দ্রুত যথাযথ কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

“word of mouth” বা জনস্রুতি সবসময়েই marketing এর প্রধান উপাদান এবং দ্রুততম মাধ্যম।

সেলক্ষ্যে, সফল e-commerce নিজ হতেই ক্রেতাদের কাছ থেকে গোটা প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোন মন্তব্য আছে কি না বিভিন্ন মাধ্যমে সেটা জেনে নেয়।

) জিতবার দৃঢ়তাঃ ব্যবসায় খারাপ সময় আসা নতুন কিছু নয়। তাই জিতবার মানুষিকতা (winning mindset) এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।

খারাপ সময়ের কারণে কখনো কোন ব্যবসা থেমে যায় না, ব্যবসা তখনি থেমে যায় যখন দৃঢ়তা, নিজ কাজের উপর বিশ্বাস বা কর্মের প্রতি যথেষ্ট  মনোযোগের অভাব থাকে।

এখনকার সফল e-commerce গুলোর প্রতিটিই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েই আজ এ অবস্থায়।

৯৭ এর দিকে, Jeff Bezos তার ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের বলে রেখেছিল যে, তাদের মুনাফা আসতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হবে।

অবশেষে, ৬ বছর পর অর্থাৎ ২০০৩ এ Amazon.com প্রথম লাভের মুখ দেখে!

 

প্রথম পর্বে ছিল, e-commerce এর শুরুর দিকের কথা।

দ্বিতীয় পর্বে এখানে বুঝতে চাইলাম এদের সফলতার পিছনে চিন্তাভাবনাগুলো কি রকম ছিল।

পরবর্তী পর্বে আমি জানতে চাইবো, বর্তমান সময়ে কি কি innovation এই e-commerce-কে কেন্দ্র করে হচ্ছে।

আর অবশ্যই, এসকল বিষয় একত্রিত করে আমি আগাম ধারণা করতে চাইবো ভবিষ্যৎ কে।

Future of E-commerce আমাদের জন্যে কিভাবে অপেক্ষা করছে।

 

You can’t wait for customers to come to you. You have to figure out where they are, go there and drag them back to your store.

-Paul Graham (Founder of Y-Combinator)

 

214 Replies to “Global E-commerce দ্বিতীয় পর্বঃ E-commerce-এ সাফল্যের পথ”

  1. Pingback: wanatchi vibrator
  2. I want to express appreciation to you just for rescuing me from this problem. Right after browsing through the online world and obtaining opinions which were not beneficial, I believed my entire life was done. Living devoid of the approaches to the problems you have resolved by means of your good write-up is a critical case, and the ones that would have badly damaged my career if I hadn’t encountered your site. Your good capability and kindness in dealing with all the stuff was helpful. I am not sure what I would have done if I hadn’t come upon such a subject like this. I can at this time look forward to my future. Thank you so much for your high quality and effective guide. I will not think twice to recommend the blog to any individual who would need guidance on this situation.

  3. Hello there, You’ve done an incredible job.
    I will certainly digg it and personally suggest to my friends.
    I am confident they’ll be benefited from this web site.

  4. I just want to say I am very new to blogs and truly savored you’re web site. More than likely I’m likely to bookmark your website . You amazingly come with superb articles and reviews. Regards for sharing your webpage.

  5. How long does a copyright last on newspaper articles?. . If a service copies newspapers articles and then posts it in a database on the Internet, is there also a copyright on the Internet content?.

  6. Pingback: iptv 4d
  7. How long does a copyright last on newspaper articles?. . If a service copies newspapers articles and then posts it in a database on the Internet, is there also a copyright on the Internet content?.

  8. Pingback: pornofilmpjes
  9. Pingback: gratis films
  10. Pingback: geile sex filmpjes
  11. Pingback: porno files

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *